মেনু নির্বাচন করুন
কৃষি অফিস

অত্র ইউনিয়নের আওতায় কোন কৃষি অফিস নেই, তবে সাধারণ জনগন অত্র ইউনিয়ন হতে কৃষি সেবা পেয়ে থাকে।

  • কী সেবা কীভাবে পাবেন
  • প্রদেয় সেবাসমুহের তালিকা
  • সিটিজেন চার্টার
  • সাধারণ তথ্য
  • সাংগঠনিক কাঠামো
  • কর্মকর্তাবৃন্দ
  • তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা
  • কর্মচারীবৃন্দ
  • বিজ্ঞপ্তি
  • ডাউনলোড
  • আইন ও সার্কুলার
  • ফটোগ্যালারি
  • প্রকল্পসমূহ
  • যোগাযোগ

বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ইউনিয়নের আওতায় একটি করে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করেন। যার ফলে ৬০ হতে ৯০ দশকের মত উপজেলা কিংবা জেলার কৃষি অফিসের সামনে গুরাগুরি না করে সরা সরি এ২আই এর অধীনস্থ ই-সেবা থেকে সরাসারি সেবা পাচ্ছেন।

যেমন -

১. সার সুপারিশ

২. মাটি পরীক্ষা,

৩. উন্নত জাতের চারা রুপনে সহযোগীতা।

৪. কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ।

৫. উন্নত জাতের বীজ রোপনে সহযোগীতা।

৬. বিভিন্ন ব্যাংক হতে কৃষির্ ঋণের সহযোগীতা করণ সহ নানা প্রকার সহযোগীতা।

কৃষি তথ্য সার্ভিস
 
. কৃষি তথ্য সার্ভিসের সিটিজেন চার্টার
কৃষি তথ্য সার্ভিস প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মাঝে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের জীবন ব্যবস্থার মান উন্নয়ন করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পুষ্টি সমৃদ্ধ করে তোলা তথা জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে অব্যাহত ভূমিকা পালনে সহায়তা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
 
কৃষি তথ্য সার্ভিসের সেবাসমূহ/কার্যাবলী
১.১ কৃষি তথ্য সার্ভিস গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি স্বতন্ত্র দপ্তর। এর মূল কাজ হলো কৃষি বিষয়ক তথ্য প্রচার ও প্রকাশনা।
১.২ কৃষির আধুনিক লাগসই প্রযুক্তি সহজ, সরল ও সাবলীল ভাষায় মানসম্মত তথ্য সেবা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেয়াই কৃষি তথ্য সার্ভিসের কাজ।
১.৩ কৃষি তথ্য সার্ভিস দু’টি মূল ধারায় কাজ করে থাকে যথা : ক) প্রিন্ট মিডিয়া ও খ) ইলেকট্রনিক মিডিয়া।
 

প্রিন্টমিডিয়া
  • বন্যা, খরা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় কৃষকের করণীয় বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রচারণা;
  • কৃষিকথা, সম্প্রসারণ বার্তা, ফোল্ডার, লিফলেট, বুকলেট, পোস্টার, বিজ্ঞাপণ, কৃষি ডাইরি প্রকাশনা;
  • জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ।
 
. ইলেকট্রনিকমিডিয়া
  • জাতীয় দূর্যোগ, মোকাবেলায় দ্রুত টেলপ, বিজ্ঞাপণ, টক শো, ফিলার নির্মাণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা;
  • বেতার কৃষি কার্যক্রম সম্প্রচার;
  • টেলিভিশনের মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠান;
  • কৃষি সংবাদ প্রচার;
  • কৃষি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী;
  • ভিডিও প্রদর্শনী ইত্যাদি;
  • বেসরকারি চ্যানেলে কৃষি কার্যক্রম প্রচার।
 
১.৪ কৃষি তথ্য সার্ভিস বেতার স্ক্রিপ্ট লিখন ও উপস্থাপন কৌশলসহ কৃষিতে উন্নয়ন যোগাযোগের ওপর কৃষি সম্প্রসারণ/মৎস্য/পশুসম্পদ/বন/বিআরডিবি/কৃষি গবেষণা/ধান গবেষণা/পাট গবেষণা/ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট/স্থানীয় সংবাদদাতা ও এনজিওকর্মীকে প্রায় স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।
 
১.৫ সর্বোপরি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত/ঘোষিত অন্যান্য সেবাসমূহ প্রদান করা।
 
 
. কৃষি তথ্য সার্ভিস থেকে যেসমস্ত সেবা পাওয়া যায় তার বিবরণ নিম্নরূপ :
 
ক্রমিক নং            দায়িত্বাবলী                  সেবাগ্রহণকারী            প্রার্থিত সুবিধা পাওয়ার সর্বোচ্চ সময়সীমা         
কৃষি তথ্য ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রিন্ট মিডিয়া
কৃষি তথ্য সার্ভিস নিজস্ব কার্যক্রম
i. নিয়মিত:
            . কৃষিকথা, একমাত্র সরকারি         আপামর কৃষক, শিক্ষক,ছাত্র/ছাত্রী, উদ্যোক্তা, খামারি, গবেষক,    ৩০ দিন
             কৃষি ভিত্তিক মাসিক ম্যাগাজিন।         সম্প্রসারণবিদ, এনজিও কর্মী, আগ্রহী জনসাধারণ                   (প্রতি সংখ্যা)
 
 
. সম্প্রসারণ বার্তা : মাসিক কৃষিভিত্তিক          কৃষি মন্ত্রণালয়াধীন সংস্থা প্রধান, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গবেষক,     ৩০ দিন
                         সংবাদ বুলেটিন।                  বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণবিদ, সম্প্রসারণকর্মী ও কৃষিজীবী               (প্রতি সংখ্যা)
 
 গ. কৃষি ডাইরি :
কৃষির সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য প্রযুক্তি,                       সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা,                      প্রতি বছর (ডিসেম্বরের
কৃষি সম্পর্কীয় টেলিফোন নম্বর এবং কৃষি স্লোগান,     অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কৃষক, গবেষক                  প্রথম সপ্তাহে প্রকাশিত)
ছন্দ ও তথ্যভিত্তিক ৩৬৫ দিনের ডাইরি
                  
ii) অনিয়মিত
ক. পোস্টার, লিফলেট, বুকলেট, ফোল্ডার,               দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য                            সারাবছর
 স্টিকার, এসব সমসাময়িক কৃষি প্রযুক্তি তথ্য,                                                            মৌসুমভিত্তিক বা যখন প্রয়োজন হয়।
চলমান গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ভিত্তিক প্রকাশনা
                    
. বিশেষ ক্রোড়পত্র : জাতীয় ও                         সমগ্র জনগোষ্ঠীর জন্য                   জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে
আন্তর্জাতিক দিবস বা ইস্যু ভিত্তিক
জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশনা                                     
                
 . বিজ্ঞপ্তি : প্রাকৃতিক দূর্যোগ, মহামারি,            দেশের কৃষিজীবীসহ আপামর জনগণ              কৃষিভিত্তিক  যে কোন ইস্যুতে
  বিশেষ তথ্য প্রযুক্তি প্রচারণা সম্পর্কে
  জ্ঞাত করানো।
 
. অন্য বিভাগের প্রকাশনা :              কৃষি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন বিভাগ, সংস্থা কর্তৃক প্রেরিত     সারাবছর প্রয়োজন মাফিক
বুকলেট, লিফলেট, পোস্টার,
ফোল্ডার, প্রশিক্ষণ, ম্যানুয়ালসহ
 অন্যান্য প্রকাশনা
           
০২. কৃষি তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক ইলেকট্রনিক মিডিয়া      পুরো দেশের রেডিও’র শ্রোতামণ্ডলী      প্রতিদিন  জাতীয় ও আঞ্চলিক    
. রেডিও: জাতীয় (দেশ আমার মাটি আমার) আঞ্চলিক দু’টো অনুষ্ঠান                                  প্রোগ্রামে সম্প্রচার               
প্রভাতী ও সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চলমান, সময়োপযোগী                                                
তথ্য প্রযুক্তি সম্প্রচার, দৈনিক প্রায় সাড়ে ৫ ঘন্টা
           
টেলিভিশন : মাটি ও মানুষ, কৃষি তথ্য ও      কৃষির সাথে সম্পৃক্ত, আগ্রহী শ্রোতাবৃন্দ, দেশব্যাপী        সপ্তাহে ২ দিন নতুন অনুষ্ঠান
     উন্নয়নমূলক অনুষ্ঠান-সপ্তাহে ৫ দিন                                                                                সম্প্রচার ও পুনঃপ্রচার ৩ দিন 

০৩. মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশন ও প্রমোশন :                    
কৃষি তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক
Infotainment (বিনোদনের মাধ্যমে কৃষি তথ্য                               গ্রাম ও শহরের আগ্রহী দর্শক,            মেলা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎসব পালন
প্রযুক্তিভিত্তিক ডকুড্রামা, গান, নাটক তৈরি ও সম্প্রচার                     কৃষক, ছাত্র, শিক্ষকসহ কৃষিজীবী           এবং যে কোন সংস্থার চাহিদামাফিক
যা গ্রামগঞ্জে, হাটবাজারে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ধ্যার পর প্রচারিত হয়)        
         
০৪. প্রশিক্ষণ : কৃষিতে উন্নয়ন যোগাযোগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর কৌশল,    সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ।      প্রতি বছরে
ই-কৃষি, ই-গভর্নেন্স ও ই-কমার্স, কৃষি ডিজাইনিং ও  গ্রাফিক্স      যারা মিডিয়া ভিত্তিক কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট বা আগ্রহী    সিডিউল অনুযায়ী

    
০৫. বেতার স্ক্রিপ্ট লিখন ও উপস্থাপন কৌশলসহ          কৃষি সম্প্রসারণ/মৎস্য/বন/পশুসম্পদ/                প্রান্তিক সভার সিদ্ধান্ত
কৃষি উন্নয়ন যোগাযোগ এর ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান।         বিআরডিবি/কৃষি গবেষণা/ধান/গবেষণা/               অনুযায়ী
                                                                               পাট গবেষণা/ইক্ষু গবেষণা/স্থানীয়
                                                                                সংবাদদাতা ও এনজিও কর্মী
          
০৬. সরকার কর্তৃক নির্ধারিত/ঘোষিত অন্যান্য সেবাসমূহ প্রদান করা     আপামর দেশবাসী      সারাবছর (প্রয়োজন মাফিক)
                                                                                       
০৭. টাইমস্কেল প্রদান                                                      প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারী                ৩০ দিন
 
০৮. চিকিৎসা সাহায্য মঞ্জুরি আবেদন এবং চাকরির দরখাস্ত অগ্রায়ণ       প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারী               ৭ দিন
 
০৯. জি পি এফ, গৃহ নির্মাণ, গাড়ি ও অন্যান্য ধরনের আবেদন নিষ্পত্তি      প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারী                ৭ দিন
 
১০. বেতন সমতাকরণ ও ইনক্রিমেন্ট প্রদান                          প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারী                ১৫ দিন
 
১১. অফিস সরঞ্জাম ও সামগ্রী ক্রয়ের আবেদন নিষ্পত্তিকরণ                 প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারী                 ১৫ দিন
 
১২. পদোন্নতি এবং নতুন নিয়োগ                                             প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারী             ৯০ দিন
 
১৩. অন্য যে কোন আবেদন                                                  প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারী               ৭ দিন
 
১৪. অভিযোগ প্রাপ্তি স্বীকার                                          সেবাগ্রহণকারী যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান      ২ দিন
 
১৫. অভিযোগের উত্তর প্রদান                                                  অভিযোগকারী                                 ১০ দিন
 
১৬. অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি                                               অভিযোগকারী                                 ২৫ দিন
 
১৭. মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন প্রেরণ                                                প্রয়োজনমাফিক
 

. অভিযোগ/দুর্দশার প্রতিকার
প্রধান তথ্য অফিসার ভোক্তাদের দুর্দশা দ্রুততার সাথে প্রতিকারের জন্য ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবেন। উপকারভোগী/ ভোক্তাগণ (সরকারি দপ্তর, সংস্থা এবং প্রাইভেট সংস্থা ও কৃষকগণ) অভিযোগ বা দুর্দশাসমূহ প্রতিকারের অথবা উৎপাদনমুখী তথ্য সংগ্রহের জন্য ফোকাল পয়েন্ট কে অবহিত করার জন্য প্রতি মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত সময়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবেন। তিনি সমস্যাসমূহের সক্রিয় জবাব দিবেন এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে বাধ্য থাকবেন। অভিযোগ বাক্সে প্রাপ্ত অভিযোগের প্রতিকারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য থাকবেন।
 

অভিযোগ/দুর্দশা প্রতিকারের সময়সীমা
বিষয়                                                                       সময়সীমা
অভিযোগ প্রাপ্তি স্বীকার                                                   ২দিন
অভিযোগকারীর নিকট অন্তর্বর্তীকালীন উত্তর প্রদান           ১০ দিন
চূড়ান্ত নিষ্পত্তি                                                               ২৫ দিন
মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন প্রেরণ                                             প্রয়োজনমাফিক

মাঘ মাসের কৃষি

সুপ্রিয় কৃষিজীবী ভাইবোন, সবাইকে মাঘ মাসের কনকনে শীতের হিমেল শুভেচ্ছা। আসুন আমরা জেনে নেই মাঘ মাসে সমন্বিত কৃষির সীমানায় আমাদের করণীয় কাজগুলো।
 
ফসল / অবস্থা/বিবরণ /করণীয়  
পরিচর্যা    
মাঠে বোরো ধানের বাড়ন্ত পর্যায় এখন। এ সময় বোরো ধানে প্রয়োজন সারের উপরি প্রয়োগ, নিয়মিত সেচ প্রদান, আগাছা দমন, বালাই ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য পরিচর্যা করতে হবে। ইউরিয়া সারের উপরি প্রয়োগের উপযুক্ত সময় এখন। ধানের চারা রোপণের ১৫-২০ দিন পর প্রথম কিস্তি, ৩০-৪০ দিন পর দ্বিতীয় কিস্তি এবং ৫০-৫৫ দিন পর শেষ কিস্তি হিসেবে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া চারা রোপণের ৭-১০ দিনের মধ্যে গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ করতে পারেন। এতে একরে ৬৫ কেজি গুটি ইউরিয়ার প্রয়োজন হয়।
 
বালাই ব্যবস্থাপনা
এ সময় ধান ক্ষেতে রোগ ও পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে। রোগ ও পোকা থেকে ধান গাছকে বাঁচাতে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ, আন্তঃপরিচর্যা, যান্ত্রিক দমন, উপকারী পোকা সংরক্ষণ, ক্ষেতে ডালপালা পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করার মাধ্যমে ধানক্ষেত বালাই মুক্ত করতে পারেন। এসব পন্থায় রোগ ও পোকার আক্রমণ প্রতিহত করা না গেলে শেষ উপায় হিসেবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে সঠিক বালাইনাশক, সঠিক সময়ে, সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।
আন্তঃপরিচর্যা ও সেচ প্রদান
গমের জমিতে যেখানে ঘন চারা রয়েছে তা পাতলা করে দিতে হবে। এ সময় গমের শিষ বেড় হয়।  যদি শিষ বেড় হয় বা গম গাছের বয়স ৫৫-৬০ দিন হয় তবে জরুরিভাবে গম ক্ষেতে একটি সেচ দিতে হবে। এতে গমের ফলন বৃদ্ধি পাবে। মনে রাখতে হবে ভালো ফলনের জন্য দানা গঠনের সময় আরেকবার সেচ দেয়া বেশি জরুরি। এ সময় গম ক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব হয়ে থাকে তাই ইঁদুর দমন জরুরি। তবে ইঁদুর দমনের কাজটি করতে হবে সম্মিলিতভাবে।
 
আন্তঃপরিচর্যা ও সেচ প্রদান    
ভুট্টা ক্ষেতের গাছের গোড়ার মাটি তুলে দিতে হবে এবং গোড়ার মাটির সাথে ইউরিয়া সার ভালো করে মিশিয়ে দিতে হবে। এরপর সেচ প্রদান করতে হবে এবং গাছের নিচের দিকের মরা পাতা ভেঙে দিতে হবে। ভুট্টার সাথে সাথী বা মিশ্র ফসলের চাষ করে থাকলে সেগুলোর প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করতে হবে।
 
আলু    
বালাই ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যা    
আলু ফসলে নাবি ধসা রোগ দেখা দিতে পারে। সে কারণে স্প্রেয়িং শিডিউল মেনে চলতে হবে। তবে বালাইনাশক প্রয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা দরকার। এছাড়া বালাইনাশক কেনার আগে  তা ভালোমানের কিনা তা যাচাই করে নিতে হবে। মড়ক রোগ দমনে দেরি না করে ২ গ্রাম ডায়থেন এম ৪৫ অথবা সিকিউর অথবা ইন্ডোফিল প্রতি লিটার পানির সাথে মিশিয়ে ৭ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে। মড়ক লাগা জমিতে সেচ দেয়া বন্ধ করতে হবে। তাছাড়া আলু ফসলে মালচিং, সেচ প্রয়োগ, আগাছা দমনের কাজগুলোও করতে হবে।  আলু  গাছের বয়স ৯০ দিন হলে মাটির  সমান করে গাছ কেটে দিতে হবে এবং ১০ দিন পর আলু তুলে ফেলতে হবে। আলু তোলার পর  ভালো করে শুকিয়ে বাছাই করতে হবে এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে।
 
সংগ্রহ    
এ সময় তুলা সংগ্রহের কাজ শুরু করতে হবে। তুলা সাধারণত ৩ পর্যায়ে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। শুরুতে ৫০% বোল ফাটলে প্রথম বার, বাকি ফলের ৩০% পরিপক্ব হলে দ্বিতীয় বার এবং অবশিষ্ট ফসল পরিপক্ব হলে শেষ অংশের তুলা সংগ্রহ করতে হবে। রৌদ্রময় শুকনা দিনে বীজ তুলা উঠাতে হয়। ভালো তুলা আলাদাভাবে তুলে ৩-৪ বার রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, ভালো তুলার সাথে যেন খারাপ তুলা (পোকায় খাওয়া, রোগাক্রান্ত) কখনও না মেশে।
 
সংগ্রহ    
মসুর, ছোলা, মটর, মাসকালাই, মুগ, তিসি পাকার সময় এখন। সরিষা, তিসি বেশি পাকলে রোদের তাপে ফেটে গিয়ে বীজ পড়ে যেতে পারে, তাই এগুলো ৮০ ভাগ পাকলেই সংগ্রহের ব্যবস্থা নিতে হবে। আর ডাল ফসলের ক্ষেত্রে গাছ গোড়াসহ না উঠিয়ে মাটি থেকে কয়েক ইঞ্চি রেখে ফসল সংগ্রহ করতে হবে। এত জমিতে উর্বরতা এবং নাইট্রোজেন সরবরাহ বাড়বে।
 
পরিচর্যা    
শীতকাল শাকসবজির মৌসুম। নিয়মিত পরিচর্যা করলে শাকসবজির ফলন অনেক বেশি পাওয়া যায়। এছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, ওলকপি, শালগম, গাজর, শিম, লাউ, কুমড়া , মটরশুঁটি এসবের নিয়মিত যত্ন নিতে হবে। টমেটো ফসলের মারাত্মক পোকা হলো ফলছিদ্রকারী পোকা। ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে পুরুষ মথকে ধরে সহজে এ পোকা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রতি বিঘা জমির জন্য ১৫টি ফাঁদ স্থাপন করতে হবে। তাছাড়া ক্ষেতে পতঙ্গভুক পাখি বসার  ব্যবস্থা করতে হবে। আধাভাঙ্গা নিম বীজের নির্যাস (৫০ গ্রাম এক লিটার পানির সাথে মিশিয়ে ১২ ঘণ্টা ভেজাতে হবে এবং পরবর্তীতে মিশ্রনটি ভালো করে ছাকতে হবে) ১০ দিন পর পর ২/৩ বার স্প্রে করে এই পোকা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আক্রমণ তীব্র হলে কুইনালফস গ্রুপের কীটনাশক (দেবীকইন ২৫ ইসি/কিনালাক্স ২৫ ইসি/করোলাক্স ২৫ ইসি) প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলিলিটার পরিমাণ মিশিয়ে স্প্রে করে এ পোকা দমন করা যায়। এ সময় চাষিভাইরা টমেটো সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করতে পারেন। আধা পাকা টমেটোসহ টমেটো গাছ তুলে ঘরের ঠাণ্ডা জায়গায় উপুড় করে ঝুলিয়ে টমেটোগুলোকে পাতলা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। পরবর্তীতে ৪-৫ মাস পর্যন্ত অনায়াসে টমেটো খেতে পারবেন। আর শীতকালে মাটিতে রস কমে যায় বলে সবজি ক্ষেতে চাহিদামাফিক সেচ দিতে হবে। তাছাড়া আগাছা পরিষ্কার, গোড়ায় মাটি তুলে দেয়া, সারের উপরিপ্রয়োগ ও রোগবালাই প্রতিরোধ করা জরুরি।
 
পরিচর্যা    
শীতে গাছের গোড়ায় নিয়মিত সেচ দিতে হবে, গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হবে এবং আগাছামুক্ত রাখতে হবে। সাধারণত এ সময় আম গাছে মুকুল আসে। গাছে মুকুল আসার পরপরই এ মুকুল বিভিন্ন প্রকার রোগ এবং পোকামাকড় দ্বারা আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো আমের অ্যানথ্রাকনোজ রোগ। এ রোগ দমনে গাছে মুকুল আসার পর কিন্তু ফুল ফোটার পূর্ব পর্যন্ত আক্রান্ত গাছে টিল্ট-২৫০ইসি প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি অথবা ২ গ্রাম ডাইথেন এম-৪৫ প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এছাড়া আমের আকার মটর দানার মতো হলে গাছে ২য় বার স্প্রে করতে হবে। এ সময় প্রতিটি মুকুলে অসংখ্য হপার নিম্ফ দেখা যায়। আম গাছে মুকুল আসার ১০ দিনের মধ্যে কিন্তু ফুল ফোটার পূর্বেই একবার এবং এর একমাস পর আর একবার প্রতি লিটার পানির সাথে ১.০ মিলি সিমবুস/ফেনম/ডেসিস ২.৫ ইসি মিশিয়ে গাছের পাতা, মুকুল ও ডালপাল ভালোভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।
 
শীতকালে পোলট্রি তে যেসব সমস্যা দেখা যায় তা হলো-অপুষ্টি, রানীক্ষেত, মাইকোপাজমোসিস, ফাউল টাইফয়েড, পেটে পানি জমা। মোরগ-মুরগির অপুষ্টিজনিত সমস্যা সমাধানে ভিটামিন এ, সি, ডি, ই, কে ও ফলিক এসিড সরবরাহ করতে হবে। তবে সেটি অবশ্যই প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে।
 
শীতের তীব্রতা বেশি হলে পোলট্রি শেডে অবশ্যই মোটা চটের পর্দা লাগাতে হবে এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। পোলট্রি লিটারে অ্যামোনিয়া গ্যাস রোধে ১ বর্গফুট জায়গায় ১ কেজি হারে অ্যামোনিল পাউডার মিশাতে হবে। শীতকালে মোরগ-মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সপ্তাহে দুই দিন খাবারের সাথে ভিটামিন ই এবং ভিটামিন সি মিশিয়ে দিতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলে অনেকেই হাঁস পালন করে থাকেন। এ সময় হাঁসের নানা রোগও হয়ে থাকে।  হাঁসের যেসব রোগ হয় সেগুলো হলো- হাঁসের প্লেগ রোগ, কলেরা রোগ এবং বটুলিজম। প্লেগ রোগ প্রতিরোধে ১৮-২১ দিন বয়সে প্রথম মাত্রা এবং প্রথম টিকা দেয়ার পর ৩৬-৪৩ দিন বয়সে দ্বিতীয় মাত্রা পরবর্তী ৪-৫ মাস পরপর একবার ডাক প্লেগ টিকা দিতে হবে।  হাঁসের কলেরা রোগের জন্য ডাক কলেরা টিকা ৪৫-৬০ দিন বয়সে ১ বার, ৬০-৭৫ দিন পর দ্বিতীয় বার এবং পরবর্তী ৪-৫ মাস পর পর টিকা দিতে হবে।
 
গোখামারে শীতকালে মোটা চটের ব্যবস্থা করা খুব জরুরি।  নাহলে গাভীগুলো তাড়াতাড়ি অসুস্থ হয়ে যাবে। এ সময় গাভীর খাবার প্রদানে যেসব বিষয়ে নজর দিতে হবে তাহলো- সঠিক সময়ে খাদ্য প্রদান, গোসল করানো, থাকার স্থান পরিষ্কার করা, খাদ্য সরবরাহের আগে খাদ্য পাত্র পরিষ্কার করা এবং নিয়মিত প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া। তবে গাভীর খাবারের খরচ কমাতে সবচে ভালো হয় নিজেদের জমিতে তা চাষাবাদ করা। আর একটি কাজ করলে ভালো হয় সেটি হলো-সমবায় সমিতি করে ওষুধ ও চিকিৎসা করানো। এতে লাভ হয় বেশি। খরচ যায় কমে।
 

শীতকালে মাছের বিশেষ যত্ন নেয়া দরকার। কারণ এ সময়ে পুকুরে পানি কমে যায়। পানি দূষিত হয়। মাছের রোগবালাইও বেড়ে যায়। সে কারণে কার্প ও শিং জাতীয় মাছে ড্রপসি বা উদর ফোলা রোগ বেশি হয়। এ রোগ প্রতিরোধে মাছের ক্ষত রোগ যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে। আর এ রোগের প্রতিকারে প্রতি কেজি খাদ্যের সাথে ১০০ মিলিগ্রাম টেরামাইসিন বা স্ট্রেপটোমাইসিন পর পর ৭ দিন খাওয়াতে হবে। কৃষির যে কোন সমস্যায় উপজেলা কৃষি অফিস, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস ও উপজেলা মৎস্য অফিসে যোগাযোগ করে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারেন।

ছবি নাম মোবাইল
জনাব মোঃ আবদুল কুদ্দুস 0

ছবি নাম মোবাইল

ছবি নাম মোবাইল

0

চট্টগ্রাম শহর থেকে অক্সিজেন এসে বাসে অথবা সিএনজি করে হাটহাজারী বাস স্টেশন অটো রিক্সা (সিএনজি) যোগে আরো ৩মাইল ভিতরে মুহুরীহাট নামক স্থানে আসলে মুহুরীহাট বাজার সংলগ্নে ৩নং মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হইতে পারবেন।


Share with :